কোনো জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, ওঝা, গুণিন, দিখলি, সৎসখা, অঘোরী, কালোজাদুর কারবারি, স্পর্শ চিকিৎসক, দৈব চিকিৎসক ইত্যাদিরা যদি তাবিজ-কবজ, শেকড়-বা...
কোনো জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, ওঝা, গুণিন, দিখলি, সৎসখা, অঘোরী, কালোজাদুর কারবারি, স্পর্শ চিকিৎসক, দৈব চিকিৎসক ইত্যাদিরা যদি তাবিজ-কবজ, শেকড়-বাকড়, মন্ত্রপূত জল বা ফুল-ফল অথবা অন্য কোনোভাবে রোগ সারানোর দাবি জানায় কিংবা কৌশলে রোগ সারিয়ে দেওয়ার প্রচার করে তাহলে তারা কিন্তু যখন-তখন জেলের ঘানি টানতে পারে। কারণ, ভারতে দুটো জোরালো আইন আছে এইসব বুজরুকি চিকিৎসার বিরুদ্ধে। ভারতীয় পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত আইন "The Drugs and Magic Remedies (objectionable advertisement) Act 1954" যা ৩০ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় এবং ১ মে ১৯৫৪ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সরকারি গেজেটের বিশেষ সংখ্যায় দ্বিতীয় অংশের প্রথম অধ্যায়ের ২৪ নং ক্রমে প্রকাশিত হয়। এই আইনটি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে ভারত সরকারর Ministry of Health and Family Welfare দ্বারা Amendment হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে "The Drugs and Cosmetics Act 1940" যার শেষ Amendment হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ তে।
উক্ত দুটি আইনানুসারে মন্ত্র-তন্ত্র, রেইকি, ম্যাগনেটোথেরাপি, জেমথেরাপি, তাবিজ-কবজ, রত্নপাথর, দৈব শক্তি, অলৌকিক ক্ষমতা বা জাদুশক্তি ইত্যাদির দ্বারা কোনো রোগ সারানোর দাবী আইনত অপরাধ। এর জন্য ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ও আজীবন কারাদণ্ডর বিধান রয়েছে।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা ভালো, ২২ জুন ২০০৩ কেন্দ্ৰীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, রেইকি বা স্পর্শ চিকিৎসা যাঁরা করেন, তাঁরা নিজের নামের আগে 'ডাক্তার' শব্দটা কোনো ভাবেই ব্যাবহার করতে পারবেন না। কারণ এই চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই।
প্রিয় বন্ধু, আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গবাসী হন, আপনার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ থাকে উক্ত কোনো বুজরুকের বিরুদ্ধে তাহলে আপনি আপনার অভিযোগ দায়ের করবেন এই ঠিকানায়- The Director, The Directorate of Drugs Control, Government of West Bengal, P-16, India Exchange Place Extension, K.I.T. Building, 5th Floor, Kolkata-700073.
অভিযোগ দায়ের করার সময় স্মরণে রাখবেন, তান্ত্রিক-জ্যাোতিষী ইত্যাদিদের রোগ সারাবার কোনো বিজ্ঞাপন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত থাকলে তার জেরক্স কপি অভিযোগপত্রের সাথে যুক্ত করে দেবেন এবং মূল পত্রিকাটি যত্ন করে রেখে দেবেন যা মামলা চলাকালীন কাজে লাগবে। আপনার অভিযোগ পাওয়ার পর ড্রাগস কন্ট্রোল থেকে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইবে এই ধরনের তাবিজ কবচ ইত্যাদি (যা আইনের সংজ্ঞায় ওষুধ বা ড্রাগ) তৈরির বৈধ লাইসেন্স তার কাছে আছে কিনা? ড্রাগস কন্ট্রোলের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বানানো বা বিক্রির জন্য ওই জ্যাোতিষী-তান্ত্রিক ইত্যাদিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করবে ড্রাগস কন্ট্রোল। মামলাটি হবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বনাম সরকার। আপনাকে বড়জোর সাক্ষী দেওয়া ছাড়া কিচ্ছুটি করতে হবে না।
ধন্যবাদ,
প্রবীর ঘোষ,
সভাপতি,
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি।
No comments