প্রসঙ্গ যুক্তিবাদ ঈর্ষা, মিথ্যাচারিতা এবং কুৎসার বিরুদ্ধে লিখেছেন: দেবাশিস্ ভট্টাচার্য গ ত সংখ্যায় কথা দিয়েছ...
প্রসঙ্গ যুক্তিবাদ
ঈর্ষা, মিথ্যাচারিতা এবং কুৎসার বিরুদ্ধে
লিখেছেন: দেবাশিস্ ভট্টাচার্য
সকলেই
জানেন, যে যেকোন সৎ, সঠিক আন্দোলনকে বিনষ্ট করবার অন্যতম সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী
হাতিয়ার হলো আন্দোলনের কর্মী এবং নেতৃত্ব সম্পর্কে কুৎসা রটনা করা। সুতরাং
এটা কোন আশ্চর্যের ব্যাপার নয়, যে অনুরূপ প্রচেষ্টা যুক্তিবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে চলবে।
বরঞ্চ আশ্চর্য হওয়ার বদলে নেতৃত্ব আরো নিশ্চিত হবেন যে আন্দোলন
তাহলে সঠিক জায়গাতেই ধাক্কা দিতে পারছে। আবার এটাও সত্যি যে এ ধরণের প্রচেষ্টা বহুদিন
যাবৎ "চলা সত্ত্বেও এতে করে এখনও পর্যন্ত আন্দোলনের তেমন কোন ক্ষতিই করা যায়নি,
যদিও ঘটনার তালিকা যথেষ্টই দীর্ঘ, একই সঙ্গে আবার কৌতুহলদ্দীপক, মজাদার। কি নেই এই তালিকায়? সব বলতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে।
বেশির ভাগই সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষকে আলাদা করে নিয়ে ব্যক্তি আক্রমণের চেষ্টা।
বৈচিত্র্য রয়েছে পদ্ধতিতেও। গসিপিং, হাইসপারিং, পেটোয়া ম্যাগাজিনে লেখা প্রগলভ প্রবন্ধ,
লিফলেট, বড় বাণিজ্যিক কাগজে চিঠিপত্র বিভাগে প্রকাশিত পত্র, বাদ যায়নি কোন সম্ভাব্য
রাস্তাই। “প্রবীর ঘোষ? আরে ও লোকটা তো যুক্তিবাদী আন্দোলন করছে ব্যক্তি প্রচারের
স্বার্থে!” (এবং পশ্চিমবঙ্গের আনাচে কানাচে সাড়ে তিনশো সংগঠন ও লক্ষা- ধিক মানুষ নিঃস্বার্থভাবে
প্রবীর ঘোষের 'ব্যক্তি প্রচারকে' মদত দিচ্ছেন, এবং আরো গুটিকয় লোক 'যদি আত্মপ্রচার করে ফেলি' এই নিউরোটিক আতঙ্কে কষ্টকর
আন্দোলনের পাঠ চুকিয়ে সমালোচক নন্দলাল বনে গেছেন) যুক্তিবাদী সমিতির ভয়ে শকুন্তলা
দেবী কলকাতা ছেড়ে পিঠটান দেওয়ার পর অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় উৎস মানুষ পত্রিকার প্যাডে
একজনকে ব্যক্তিগত চিঠিতে লিখলেন, শকুন্তলা দেবী নাকি ইচ্ছে করলে আমাদের ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে
পারেন। (ট্যাশ গরু, যেমন নামে গরু কিন্তু আসলেতে
পাখি, তেমনি এই মন্তব্যের মালিকও নামে বিজ্ঞান আন্দোলক হয়েও আসলেতে যে পশ্চিমবঙ্গ
পুলিশ বিভাগের পদস্থ অফিসার হিসেবে
রাষ্ট্রশক্তির তল্পিবাহক এবং রাষ্ট্রশক্তিকে নিষ্ঠার সঙ্গে মদত দিয়ে বিজ্ঞান আন্দোলনের
পাল থেকে হাওয়া কাড়তে ব্যস্ত—এ তারই প্রমাণ।
“এতদিন ধরে প্রবীর ঘোষ কিছুই কুসংস্কার দূর করতে পারেনি, কারণ প্রবীর ঘোষের পাড়াতেই
তো জ্যোতিষী আর বাবাজী রয়ে গেছে” (বিজ্ঞান আন্দোলনের পদ্ধতির সঙ্গে পাড়ার দাদাদের
এলাকা দখলের পদ্ধতি মাথার মধ্যে গলিয়ে খিচুড়ি হয়ে গেলে এ ধরণের হিরে- মাণিক মুখে
দিয়ে বেরোনো সম্ভব)। “ভণ্ড বাবাজীদের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী সমিতির চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত
অশোভন' অথচ একই সঙ্গে আবার ডক্টর কোভুর ও বি. প্রেমানন্দের অস্তিত্বহীন চ্যালেঞ্জগুলো
নাকি মহান, সংগ্রামী। মানব জনমে কত যে গোপন যন্ত্রণা! এ সম্পর্কে বিশদ তথ্য পরে আসছে।)
যুক্তিবাদী সমিতি খালি চ্যালেঞ্জ করেই খালাস, বিজ্ঞান আন্দোলন বলতে ওরা শুধু এই বোঝে।” (যাঁরা আমাদের আন্দোলন সম্পর্কিত বইপত্রের সঙ্গে সামান্যও পরিচিত
বা আন্দোলনের ন্যূনতম খোঁজখবরটুকুও রাখেন তাঁরাই জানেন, শধুমাত্র চ্যালেঞ্জ আর অলৌকিক ঘটনার অনুসন্ধানের
উত্তেজনা পোহানোটাই যে বিজ্ঞান আন্দোলন নয় সেকথা সবচেয়ে সোচ্চারে আমরাই বলে থাকি।
এই ধরণের ধ্যানধারণা মূলতঃ প্রচার করে মার্কিন সংস্থা CSICOP। অথচ পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের
সঙ্গে যাঁরা গাঁটছড়া বেঁধেছেন, আমাদের প্রতি অভিযোগটাও তুলছেন তাঁরাই।
কি আর বলব বলন? তস্করপ্রবরের মাতাঠাকুরাণী কন্ঠের সবলতার কথা জনগণ
অবগত আছেন, এটাই ভরসা। মিথ্যে প্রচারের সময় খুবই স্বাভাবিকভাবে আপাত- শালীনতার মুখোশটাও প্রায়ই খসে পড়তে চায়৷
তখন রুচিবোধ, মাত্রাজ্ঞান ভেসে গিয়ে শোনা যায় অনাবৃত দাঁত-নখের ঘষাঘষির শব্দ।
সেসব অভিযোগ-প্রত্যুত্তরের বিবরণ দিতেও অস্বস্তি হয়, তা অন্তত
একটা ঘটনার কথা না বললে ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝা যাবে না। একবার উৎস মানুষ পত্রিকা
গোষ্ঠী থেকে আমাদের এক সরলমতি সদস্যকে একটি তৈরী করা চিঠির জেরক্স কপি দেখিয়ে বলা
হলো, এই দ্যাখো, তোমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে প্রবীর ঘোষ একটি মেয়ের শ্লীলতাহানি করেছেন।
কথাটা তোমাদের মিটিং-এ তোলো, কারণ অন্যায় কাজের তো প্রতিবাদ, হওয়া উচিত?
[সে
বিভ্রান্ত হয়ে যথারীতি মিটিংয়ে কথাটা তুলল। আচমকা অপমানে সাধারণ সম্পাদক খুবেই দুঃখিত
হলেন। সেই সদস্যকে বোঝান হল, যে চিঠিটি নিশ্চিতভাবে জাল, কারণ শ্লীলতাহানির অভিযোগ
কেউ পুলিশের
কাছে বা কোর্ট কাছারিতে বা মানবাধিকার রক্ষাকারী কোন সরকারি সংস্থার কাছে যেতে পারে,
উৎস মানুষের
কাছে যাবে কি দুঃখে?
আর উৎস মানুষ যদি তার অশ্রু মোচনের ইজারা নিয়েই থাকে, তাহলে সে-ই বা তথ্যপ্রমাণ সহ
আইনের দ্বারস্থ না হয়ে কি করে আশা করলো, যে যুক্তিবাদী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি বিনা
প্রমাণে সব কিছু বিশ্বাস করে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর মিটিং-য়ে
কথাটা কোনক্রমে তুললেই পাল্টা প্রমাণ দাবি না করে প্রবীর ঘোষ নিজে নিজেই গলায় দড়ি
দিতে উদ্যোগী হবেন? কিন্তু ছেলেটি ছিল সৎ ও আবেগ প্রবণ, এবং কুৎসা রটনার বিবেকহীন প্রক্রিয়া
সম্পর্কে চূড়ান্ত অনভিজ্ঞ। সুতরাং তার বিভ্রান্তি কাটতে চাইছিল না। তখন তিন সদস্যের একটি টিম তৈরী
করা হল, যার মধ্যে সেই সদস্য ও আরেকজন ছাড়া তৃতীয় ব্যক্তিটি ছিল বর্তমান লেখক। নির্দিষ্ট
সময়ে উৎস মানুষের দপ্তরে যাওয়া হল। পাওয়া গেল রীতা দত্তকে, আমাদের সদস্যকে কথাটা
ইনিই বলেছিলেন। কথাবার্তা যা হয়েছিল তার মোটামুটি বিবরণ দিই। প্রশ্ন
ছোঁড়া হল, আচ্ছা, অভিযোগটা পুলিশের কাছে বা আদালতে না গিয়ে আপনাদের কাছে এলো কেন? আপনারা এব্যাপারে
কি করবেন?
উত্তর
এলো—হ্যাঁ, আমরাও তো ওনাকে সেই কথাই বলছিলাম, যে থানা আদালত খোলা আছে, যান। এখানে কেন?
প্রশ্ন—কি
আশ্চর্য! তাহলে কথাটা আমাকে মিটিংয়ে তুলতে বললেন কেন?............
পুরো লেখাটি পিডিএফটি ডাউনলোড করে পড়ুন নীচের লিঙ্কে -
https://drive.google.com/file/d/1CgOzeJ8N-oBjsFOYWMdzuwcllFRhNj0m/view?usp=share_link
লেখাটির কিছু সারসংক্ষেপ:
1) “সবার সেরা ভাঁড়ামো
হচ্ছে, প্রবীর ঘোষ নাকি যুক্তিবাদী সমিতির সম্পাদকই নন। তাহলে
সম্পাদক কে? সমালোচক নিজে?” – দেবাশিস্ ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
2) "প্রশ্ন তোলা হয়েছে, 'সংস্কৃতি :সংঘর্ষ ও নির্মাণ' বইয়ের জ্যকেটে প্রবীর ঘোষকে যে 'যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃত' বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে তা কতোখানি যথার্থ। আসলে, এটা ঠিকই যে আমাদের সমিতি মাত্র নয় বছরের পুরোনো। কিন্তু 'যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃত' বলে দাবিটার সংঙ্গে প্রাচীনত্ব বা নবীনত্বের কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক রয়েছে বিজ্ঞান আন্দোলন সম্পর্কে আমাদের নতুন এবং আপসহীন দৃষ্টি ভঙ্গীর। তার কিছুটা ব্যখ্যা আগেই করেছি আরোও কিছু বলি.. ..এর আগে কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন এভাবে কাজ করার কথা ভাবেননি। তাই ভা.বি.যু.স নিশ্চয়ই পথিকৃত, তার সর্বোচ্চ নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রবীর ঘোষও। এটা আমরা বুক বাজিয়ে বলি, এবং বলব।
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
[আমরাও তাই মানি,
কিন্তু আগেই যে বললেন কুৎসাকারীরা ভাঁড়ামো করে। এখনো তাই করে ইতিহাস
বিকৃতির চেষ্টা করছে তাই ইতিহাস খুঁড়ে ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার কাছে নিমগ্ন হয়েছি।]
3) 'প্রায় কুড়িটি
লেখা প্রবীর ঘোষ নাকি বেমালুম তুলে নিয়েছেন অথচ কোনো স্বীকারোক্তি বা অনুমতির প্রয়োজন
বোধ করেননি।' ঘটনা হলো তারমধ্যে অনেক লেখাগুলোই আমাদের স্বতন্ত্র
অনুসন্ধানের ফল, সুতরাং প্রদত্ত তথ্য উৎস মানুষ এর দেওয়া তথ্যের
থেকে বেশী। আর অত্যল্প যে কটা ঘটনায় ওই পত্রিকার সাহায্য নেওয়া হয়েছে সেগুলোর জন্যই
বইয়ের শেষে গ্রন্থ তালিকায় উৎস মানুষের নাম অতি অবশ্য স্বীকৃত হয়েছে।"
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
4) "ওঁরা বিজ্ঞান আন্দোলন করেন দুভাবে। এক,একটা কর্মসূচী ঘোষণা করা ; দুই, যুক্তিবাদী সমিতিকে, বিশেষতঃ ব্যক্তি প্রবীর ঘোষকে গালিগালাজ করা '
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
5) "কিন্তু ঐ সংখ্যা
হাতে আসার পর বোঝা গেলো, বাজারী সাহিত্যের সঙ্গে আপোস করতেও তাঁরা
ইচ্ছুক, যদি প্রবীর ঘোষের কুৎসা রটনার মতো দরকারী কোন কাজ থাকে
'
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
6) "একবার উৎস মানুষ পত্রিকা গোষ্ঠী থেকে আমাদের এক সরলমতি সদস্যকে একটি তৈরী করা চিঠির জেরক্স কপি দেখিয়ে বলা হলো, এই দ্যাখো, তোমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে প্রবীর ঘোষ একটি মেয়ের শ্লীলতাহানি করেছেন.. সদস্যের সংশয় কেটেছিল " – দেবাশিস্ ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
[ওহো! এভাবে ভুয়ো শ্লীলতাহানির
কেসও আসতো! বুঝলাম]
7) "বেশিরভাগই সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষকে আলাদা করে নিয়ে ব্যক্তি আক্রমণের চেষ্টা। বৈচিত্র্য রয়েছে
পদ্ধতিতেও"
– দেবাশিস্ ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
8) "সকলেই জানেন, যে কোনও সৎ,সঠিক আন্দোলনকে বিনষ্ট করবার অন্যতম সহজ এবং কার্যকরী হাতিয়ার হলো আন্দোলন কর্মী ও নেতৃত্ব সম্পর্কে কুৎসা রটানো”
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
9) "সমিতির তো
কাজের চাপ প্রচুর, একটা ফালতু পত্রিকাকে প্রমাণ দিতে যাবো কেন?
তাও দিতে পারি, কিন্তু তারজন্য অবশ্যই পাঁচহাজার
টাকা জমা দিয়ে প্রথা সম্মতভাবে আমাদের দেড় লাখ টাকার চেলেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আর
টাকা না দিতে পারলে শর্ত এই হবে যে আপনারা হেরে গেলে সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যেই মাথা
কামিয়ে ঘোল ঢেলে দেওয়া হবে। রাজি থাকলে আসুন, আর না হলে আমাদের
সময়ের অনেক দাম আছে"
– দেবাশিস্
ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী পত্রিকা, ১৯৯৪।
[এখন চ্যালেঞ্জ পঞ্চাশ লাখ আর জমা দিতে হয় একলাখ।
পুরো লেখাটি পিডিএফটি ডাউনলোড করে পড়ুন নীচের লিঙ্কে -
https://drive.google.com/file/d/1CgOzeJ8N-oBjsFOYWMdzuwcllFRhNj0m/view?usp=share_link


No comments