Page Nav

HIDE

Breaking News:

latest

প্রবীর ঘোষের কিছু কোটেশন-

১ ) “ সাংস্কৃতিক চেতনাকে একমুখী করে অপসংস্কৃতির দ্বারা , অর্থাৎ ভোগবাদী চিন্তার দ্বারা প্রভাবিত করে জনগনকে যদি রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈত...


)
সাংস্কৃতিক চেতনাকে একমুখী করে অপসংস্কৃতির দ্বারা, অর্থাৎ ভোগবাদী চিন্তার দ্বারা প্রভাবিত করে জনগনকে যদি রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামানোর কাজটা সি.আই.এ.-নিখুঁত ও সার্থকভাবে পালন করতে সমর্থ হয়, তবে আমরাই বা কেন বঞ্চিত মানুষদের চেতনাকে সুস্থ-সংস্কৃতির খাতে বইয়ে বঞ্চনার প্রকৃত কারণগুলোর দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জনগনকে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামাতে পারব না?”


-প্রবীর ঘোষ

 ২) যুক্তিবাদ' শুধু বিচার-বিশ্লেষনের কিছু পদ্ধতিগত কায়দা - কানুন নয়, ‘যুক্তিবাদ’ একটি সামগ্রিক জীবন দর্শন, একটি বিশ্ব - নিরীক্ষা পদ্ধতি, একটি বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গী। -প্রবীর ঘোষ

৩) ভারতীয় ঐতিহাসিকরা চিরকালই যতটা শাসকগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছে, ততটাই মুখ ফিরিয়ে রেখেছে আমজনতার দিক থেকে। ফলে আমরা ইতিহাস বলতে রাজ-রাজড়ার ‘বীরত্ব’ ও ‘প্রেম’ কাহিনী পড়েছি। তাদের শোষণ, অত্যাচার, অবিচার, স্বেচ্ছাচারিতা, লাম্পট্য, সাধারণ মানুষের জীবনচর্যার খুঁটিনাটি রয়ে গেছে আড়ালে।

-প্রবীর ঘোষ

 

৪) মূল্যবোধহীন, দর্শনহীন কোনও আন্দোলনই- কখনই কোনও শ্রেণীরই মুক্তি আনতে পারেনি, পারবেও না।

৫) নির্বাচন নির্ভর রাজনৈতিক দলগুলিকে রাষ্ট্র- ক্ষমতা দখলের লড়াইতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় তার পুরোটা যেহেতু ধনী হুজুরের দলই জোগায় তাই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রশক্তি হয়ে দাঁড়ায় ধনীদের বিশ্বস্ত যো-হুজুরের দল।

-প্রবীর ঘোষ

 

৬) যুক্তিবাদীরা অনমনীয়। অনমনীয় তাদের আদর্শের প্রতি। তাদের মূল্যবোধের প্রতি। একই সঙ্গে যুক্তি ও যুক্তিহীনতায় অবস্থান করে “যুক্তিবাদী” হওয়া যায় না। মানুষের বিশ্বাসে আঘাত না দেওয়ার পক্ষে হাজারো অজুহাত হাজির করেও নয়। এ অজুহাতের আরেক এক নাম হল সুবিধাবাদ’ -প্রবীর ঘোষ

 

৭) “যে কোন চরিত্র বিশ্লেষণের আগে আমরা একটা কথা মাথায় রাখবো - আমরা কেউ-ই শ্রেণীবদ্ধতা ও কালবদ্ধতার ঊর্ধ্বে নই । সমস্ত দোষ-মুক্ত মানুষের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। প্রতিটি চরিত্রকে সামগ্রিক ভাবে বিচার করে দেখা প্রয়োজন তাঁদের দোষের পাল্লা ভারী, না গুণের?

-প্রবীর ঘোষ

 

৮) যে দেশের মানুষের দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার অধিকার নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই, চিকিৎসার সুযোগ সুবিধে গ্রহণের অধিকার নেই, শিক্ষালাভের সুযোগ সুবিধে গ্রহণের অধিকার নেই সেখানে বিড়লা, আম্বানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী আর গরীব মানুষগুলোর সমান গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা যারা বলে তারা শয়তানের দোসর - এটুকু নির্ধিদ্বায় বলা যায়।”

-প্রবীর ঘোষ

 

৯) একই সঙ্গে দেশের কিছু অঞ্চলের মানুষকে গণতন্ত্রমুখী করতে সমবায় চিন্তাকে প্রয়োগ করবো এবং প্রয়োজনে সীমিত শক্তি প্রয়োগ করবো। এই শক্তি প্রয়োগ কখনই সশস্ত্র সংগ্রাম নয়। আত্মরক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগ । দুর্নীতিবাজদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করতে শক্তি প্রয়োগ। আঘাত করতে গেলে প্রত্যাঘাত আসবে এই বিশ্বাসই যদি নেকড়েদের মনে গাঁথা থাকতো তাহলে মহেশ - সরিতার উপর থাবা বসাবার সাহস পেত না।” -প্রবীর ঘোষ

 

১০) যে কারণে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকাকে ধিক্কার জানাই, সেই একই কারণে বা অপরাধের জন্যে সাম্রাজ্যবাদী ভারতকে কেন ধিক্কার জানাবো না? একই কারণের জন্যে দু'রকম ব্যবহার করলে তা হবে আমাদেরই দ্বিচারিতা, ভন্ডামী এবং বোধবুদ্ধির অভাবের পরিচয়।” -প্রবীর ঘোষ

 

১১) যারাই সরকার তৈরী করুক, আর যারাই বিরোধী আসনে বসুক - সব্বাই ধনীদের ধনের দৌলতেই করে খায়। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশের আইন এমনভাবে তৈরী হয়। যাতে ধনীরা মসৃনগতিতে শোষণ চালিয়ে যেতে পারে। সরকার যেখানে পুতুল নাচের পুতুল, সেখানে পুলিশ-প্রশাসন-আমলাদের তুড়ি বাজিয়ে নাচানো যায়।

-প্রবীর ঘোষ

 

১২) সহধর্মিনী, প্রেমিক, সহযোদ্ধার চেয়েও নারীর বড় পরিচয় হয়ে ওঠা উচিৎ সে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, স্বাধীন, স্বতন্ত্র সত্ত্বা। -প্রবীর ঘোষ

 

১৩) “কোন অসুস্থ সমাজ ব্যাবস্থায় সুস্থ ব্যাক্তিত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ ‘বিচ্ছিন্ন' হতে বাধ্য।” -প্রবীর ঘোষ

১৪) ঈশ্বর, অলৌকিকতা, নিয়তি, জন্মান্তর, কর্মফল, মন্ত্র-তন্ত্র, তাগা-তাবিজ ইত্যাদি স্থূল কুসংস্কারের উর্ধ্বে থাকাটা ‘যুক্তিবাদী' হওয়ার পূর্বশর্ত। কিন্তু শেষ কথা নয়। শেষ কথাটি হল - অবশ্যই তাকে মানবতাবাদী হতে হবে। অর্থাৎ ‘মানবতাবাদী' হয়ে ওঠার পূর্বশর্ত, যুক্তিবাদী হতে হবে। আমরা বোধহয় বলতে পারি ‘যুক্তিবাদ’ ও ‘মানবতাবাদ' পরিপূরক একটা মতবাদ। -প্রবীর ঘোষ

 

১৫) “আল্লাহ যদি নিরপেক্ষই হন, তবে তাঁর ফেরেস্তা কি করে পক্ষপাতিত্ব দেখাবার সুযোগ পান। কি করে কোনও অঞ্চল হয় শস্যশ্যামলা, কোনও অঞ্চল চূড়ান্ত অনুর্বর, কোনও অঞ্চলে বন্যার আধিক্য, কোনও অঞ্চলে খরার, কোনও মানুষের ঘরে খাদ্যের প্রাচুর্য্য, কোনও মানুষের ঘরে চরম দারিদ্র।” -প্রবীর ঘোষ

 

১৬) দেশ মাটিতে তৈরী নয়, দেশ মানুষে তৈরী এই সত্যকে মাথায় রেখেই আমাদের ‘দেশপ্রেমী’ ও ‘দেশদ্রোহী' শব্দগুলির সংজ্ঞা খুঁজতে হবে। -প্রবীর ঘোষ

 

১৭) পুরুষকারহীন মানুষই জীবনের বিভিন্ন ঘাত - প্রতিঘাত থেকে মুক্তি পাবার আশায় পরমপিতাজাতীয়ের কারও কাছে আত্মসমর্পণ করে পরিত্রাণ পেতে চায়। আপোসপন্থী মানুষই শান্তি খোঁজে আত্মসমর্পণে। কাদা নরম মেরুদণ্ডী মানুষই নিজ শক্তিতে প্রতিরোধ না গড়ে আঘাত সহ্য করার শক্তি খোঁজে পরের শ্রীচরণে।

-প্রবীর ঘোষ

 

১৮) সমকালীন যুক্তিবাদ' দর্শন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পা মিলিয়ে এগোয়। শিখতে শিখতে পাল্টায় এবং পাল্টাতে পাল্টাতে শেখে।” -প্রবীর ঘোষ

 

১৯) অনেকেই যুক্তির সঙ্গে পরিচিতি হবার সুযোগ পাননি - তাই যুক্তিহীন । আবার যুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দিলেই যে সবাই যুক্তিবাদী হয়ে উঠবেন - এমনটা নয়। কারণ যুক্তিবাদী হয়ে উঠতে গেলে যুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি সৃজনশীল চিন্তার অধিকারী হওয়ার। দুয়ের মেলবন্ধনে একজন যুক্তিবাদী হয়ে ওঠে।” -প্রবীর ঘোষ

 

 

২০) সাংস্কৃতিক আন্দোলন কখনই সদস্য বাড়িয়ে দল ভারি করার হুজুগ নয়। এই আন্দোলন কিছু আগিয়ে থাকা চিন্তাকে বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার আন্দোলন। -প্রবীর ঘোষ

 

২১) কোনও অন্ধ - বিশ্বাসে বশ হওয়া নয়, বহুজনে বা বিখ্যাতজনে মেনে নিয়েছেন বলে কোনও ধারণাকে মেনে নেওয়া নয়। যুক্তি দিয়ে বিচার করব, যাচাই করব শুধু তারপরই গ্রহণ করব বা বাতিল করব।-প্রবীর ঘোষ

২২) ভূত বাসা বাঁধে আমাদের মনের অন্ধকারে। সেখানে জ্ঞানের আলো আনলেই ভূতেরা পালায়, ভূতেরা মারা যায়। অজ্ঞানতা আনে ভয়, দেয় ভূতেদের জন্ম। জ্ঞান আনে সাহস, ঘটায় ভূতেদের মৃত্যু। ভূত কোন দিনই ছিল না, নেই, থাকবেও না। -প্রবীর ঘোষ

 

২৩) যুক্তিবাদী মানসিকতাই জনগনকে পরিচালিত করবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে, আমলাতন্ত্র ঘোচানোর সংগ্রামে, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংগ্রামে। এগুলো কোনটাই পৃথক-পৃথক ব্যাপার নয়, পরস্পর সম্পর্কিত । -প্রবীর ঘোষ

 

২৪) চিন্তায় এগিয়ে থাকা মানুষ-ই পারে যুক্তি দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে ভালোকে গ্রহণ করতে ও খারাপকে ফেলে দিতে। এই যে চিন্তার সঙ্গে নিজের জীবনে তার প্রয়োগের মেলবন্ধন- এটাই সমাজকে প্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সমাজ ততটাই এগোয় যতটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যাই। -প্রবীর ঘোষ

 

২৫) কথায় ও কাজে সরকারকে এক ও ভিন্ন দেখতে চাওয়াটা একজন ভারতীয় নাগরিকের পক্ষে নিশ্চয়ই অন্যায় নয়? মুখোশ ছিঁড়তে চাওয়াটা নিশ্চয়ই বেয়াদপী নয় ? -প্রবীর ঘোষ

 

২৬) রাণা প্রতাপের রাজ্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টাকে স্বদেশ প্রেম বলার যুক্তিগ্রাহ্য কোনও কারণই থাকতে পারে না। নিজ স্বার্থে লড়াই স্বদেশ প্রেমের নিদর্শন হলে, আকবর কেন স্বদেশ প্রেমিক হবেন না? -প্রবীর ঘোষ

 

২৭) কুসংস্কার মানি না', বলতে পারাটা আজকাল স্মার্ট হওয়ার ভান হয়ে দাঁড়িয়েছে, এঁদের অনেকেই বিশ্বাস করেন - আত্মা অমর! মা বাবার মৃত্যুর পর তাই শ্রাদ্ধ করেন, পিন্ড দেন। এই শ্রাদ্ধকারীদের অনেকেই আবার ‘ভূতে ভর’- কে ‘গেঁয়ো ধারনা' বলে নাক সিঁটকোন।  -প্রবীর ঘোষ

 

২৮) যাঁরা বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতায় বা স্বপ্নে পাওয়া ওষুধের সাহায্যে যে কোনও রোগ সারাবার দাবিদার, তাঁরা প্রত্যেকেই হয় বুজরুক, নয় পাগল।  -প্রবীর ঘোষ

 

২৯) কে বললেন?” -এই ব্যাপারটা যাঁদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, তাঁদের নিজেদের বিচার - বুদ্ধির উপর আস্থা শূন্য। ‘কী বললেন?’ -এই ব্যাপারটা যাঁদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, অবশ্যই তাঁরা নিজেদের বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতার উপর আস্থা রাখেন। -প্রবীর ঘোষ

 

৩০) গড়ার নিয়ম জানা না থাকলে শুধু ভাঙার খেলা খেলে কখনই কোনও আন্দোলন, কোনও সমাজ অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব নয়।  -প্রবীর ঘোষ

৩১) ধর্ম’ ক্যানসারের চেয়েও মারক, পারমানবিক বোমার চেয়েও ধ্বংসকারী। শোষকশ্রেণীর শ্রেষ্ঠতম এই হাতিয়ারকে ধ্বংস করতে না পারলে চেতনা মুক্তির যুদ্ধ জয় অধরায় থেকে যাবে - এই পরম সত্য প্রতিটি চেতনা মুক্তির আন্দোলনকারীকে বুঝতেই হবে।” -প্রবীর ঘোষ

৩২) একবার ভাবুন তো, ভারতের কয়েক লক্ষ বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের প্রার্থনা পূরণ করতে কারখানার তালা কেন খুলছেন না ঈশ্বর? কেন ক্ষুর্ধাত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে প্রার্থনা পূরণ করতে পারছেনা ঈশ্বর? কেন সমস্ত প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে রোগীরা মরছে? ঈশ্বর কি কোন এইডস্ রোগীর প্রার্থনা পূরণ করে তাকে রোগমুক্ত করতে পারবেন? পারবেন না যতদিন পযর্ন্ত না এইডসের ওষুধ আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন পারবেন না ।

-প্রবীর ঘোষ

৩৩) যে বিচ্ছিন্নতার অর্থ শোষণের অবসানমুখী সংগ্রাম, শোষণ যুক্ত সমাজ থেকে বিযুক্ত হওয়ার তীব্র আকুতি, সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশমুখী চেতনা, সুস্থ আত্মবিশ্বাসের চেতনা, সে বিচ্ছিন্নতা অবশ্যই মনুষ্যত্বের কাম্য, সভ্যতার কাম্য। -প্রবীর ঘোষ

৩৪) বিজ্ঞান আন্দোলনকে ঘোলা করে অনেক স্বার্থান্বেষী ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছেন। এইসব স্বার্থান্বেষী বহুরূপীদের চিহ্নিতকরণের দায়িত্ব বিজ্ঞান আন্দোলন কর্মী, যুক্তিবাদী আন্দোলন কর্মী এবং সমাজ সচেতন সংস্থা ও মানুষদেরই শক্ত হাতে পালন করতে হবে । কারণ এইসব বহুরূপীরা অবতার ও জ্যোতিষীদের চেয়েও অনেক বেশী বিপদজনক।  -প্রবীর ঘোষ

 

৩৫) সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলে মানুষের চিন্তাকে একমুখী করে তোলা সম্ভব, মানুষকে মোটিভেট করা সম্ভব - এটা আজ প্রমানিত সত্য। এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা অব্যশই বলতে পারি - বিপ্লবের আগে, বিপ্লব কালে এবং বিপ্লব পরবর্তী পর্যায়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম । -প্রবীর ঘোষ

 

৩৬) লটারি, সাট্টা, ঘোড়দৌড় ইত্যাদি যতদিন থাকবে, ততদিন ‘ঈশ্বরের কৃপাধন্য বিজেতা’ও থাকবেই। আইনের খোঁচায় লটারি-সাট্টা- ঘোড়দৌড় ইত্যাদি জুয়া বন্ধ হয়ে গেলেই ঈশ্বরের কৃপা বিলোবার ক্ষমতাও তামাদি হয়ে যাবে। মানুষের আইনের কাছে ঈশ্বরের ক্ষমতা কত অকিঞ্চিৎকর, একবার ভাবুন তো! -প্রবীর ঘোষ

 

৩৭) নেতা তিনি, যিনি নিজে যে কোনও ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষন করতে পারেন এবং আন্দোলন কর্মীদের বিশ্লেষন পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশ দিতে সক্ষম। এরই পাশাপাশি নেতাকে হতে হবে সৎ, আবেগহীন, আত্মবিশ্বাসী, বিনয়ী, জনসাধারণের সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে মিশতে সক্ষম, আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ বিষয়ে সচেতন ও কৌশলগত বিষয়ে ওয়াকিবহাল। -প্রবীর ঘোষ

 

৩৮)আমরা কী করব, আমাদেরই ঠিক করতে হবে। আমজনতার আবেগে গা ভাসাবো, না-কি যুক্তি বুদ্ধিকে শানিত করতে সচেষ্ট হবো? আবেগ হলো যুক্তির সবচেয়ে বড় শত্রু। আবেগ চিন্তা শক্তিকে দুর্বল করে, যুক্তি দিয়ে বিচার করার ক্ষমতাকে শেষ করে দেয়। চিন্তা একটা অভ্যাস, একটা চর্চা। এই চর্চা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যুক্তির মধ্যে দিয়ে এগোলে সব সময়-ই আমরা উন্নত থেকে উন্নততর মূল্যবোধে পৌঁছতে পারবো। বুঝে নিতে পারবো কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কোনটা কালো, কোনটা সাদা।  -প্রবীর ঘোষ

 

৩৯) বিজ্ঞান বলে, পৃথিবী হোক বা অন্য কোনও নক্ষত্রের গ্রহেই হোক, যেখানেই প্রাণী থাকবে সেখানেই এই প্রাণের পেছনে থাকবে কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়া, কোনও আত্মা নয়।  -প্রবীর ঘোষ

৪০) আজ পর্যন্ত যত অবতার দেখেছি, সব অবতাররাই রোগমুক্তির জন্য রোগীকে ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখতে বললেও নিজেরা ভরসা রাখেন ঈশ্বরের পরিবর্তে ডাক্তারের উপর। -প্রবীর ঘোষ

 

৪১) শোষক শ্রেণী কখনই চাইতে পারে না সাধারণ মানুষের চেতনাকে যুক্তিনিষ্ঠ করতে, বেশি দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে। -প্রবীর ঘোষ

 

৪২) ব্যক্তি-শ্রদ্ধা, ব্যক্তি-পূজা যেখানে ভক্ত যুক্তিহীন করে তোলে, অন্ধ-স্তাবক করে তোলে, সেখানে ব্যাপারটা নিশ্চয় নিন্দনীয়। কিন্তু শ্রদ্ধেয়র প্রতি শ্রদ্ধার, অতি শ্রদ্ধেয়র প্রতি অতি- শ্রদ্ধা তো আদপেই নিন্দনীয় নয়। -প্রবীর ঘোষ

 

৪৩) দেশকে শক্তিশালী করতে চাই খাবার, কাপড়, মাথা গোঁজার ঠাঁই, পানীয় জল, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসবের পরিবর্ত কখনই অস্ত্র নয়। যে দেশে বেশীরভাগ মানুষই অসুস্থ, অভুক্ত এক ভয়ঙ্কর জীবন বইতে বইতে মারা যায়, সে দেশকে কোনও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী করতে পারে না ।  -প্রবীর ঘোষ

 

৪৪) সমকালীন যুক্তিবাদীরা মনে করেন না যে, একজন মানুষ নাস্তিক হলেই সে সুন্দর এক অসাম্যের সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে আদর্শ ভূমিকা পালন করবে। মানবিক গুণের আধার হবে। নাস্তিক যদি স্বার্থপর ও অসৎ হয়, সে সমাজকে শুধু বিষই দিতে পারে। একজন নাস্তিক মানবিক গুনে ঋদ্ধ হলে তিনি আমাদের উদ্দীপ্ত করেন, আদর্শ হয়ে ওঠেন।'  -প্রবীর ঘোষ

 

৪৫) দাবি সমর্থনে প্রমাণ করার দায়িত্ব দাবিদারের। ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের অভ্রান্ততা প্রমাণের দায়িত্ব আস্তিকের এবং জ্যোতিষে বিশ্বাসীদেরই। যুক্তি ও বিজ্ঞানে বিশ্বাসীরা সেই দাবির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে নিঃসন্দেহ হওয়ার পরই তা গ্রহণ করবে, এটাই তো সঙ্গত। -প্রবীর ঘোষ

 

৪৬) ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর সংবিধানে 'ধর্মনিরপেক্ষ' (Secular) শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া আছে। তাতে স্পষ্ট বলা আছে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনীতি, রাজনীতি ও শিক্ষানীতি হবে সম্পূর্ণ ধর্মবর্জিত। রাষ্ট্রনায়কগণ কোনও ভাবেই প্রকাশ্যে ধর্ম- আচরণ করতে পারবেন না। -প্রবীর ঘোষ

 

৪৭) জ্যোতিষ শাস্ত্র বলে - মানুষের ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত। জন্মের সময়ে গ্রহ - নক্ষত্রের অবস্থান অনুসারে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। জ্যোতিষীদের এই দাবিকে স্বীকার করার অর্থ মানুষের ভাগ্যের নির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক হিসাবে ঈশ্বরকে অস্বীকার করা। -প্রবীর ঘোষ

 

৪৮) প্রেমে পড়া যায় না। কাউকে ধরে বেঁধে প্রেম করানো যায় না। প্রেম একটা হয়ে ওঠার ব্যাপার। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, ভালোবাসা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতেই হবে। এগুলো উপস্থিত থাকলেই ‘প্রেম’ হবে এমনটা নয়। এগুলো ভালো বন্ধুত্বের লক্ষন। এই বন্ধুদের মধ্যেই কারও সঙ্গে ‘বিশেষ একটা সম্পর্ক' গড়ে উঠতে পারে যেটা প্রেম। -প্রবীর ঘোষ

 

৪৯) মানুষ অমর তার কাজের জন্য। যে নতুন শিক্ষা, চেতনা, জ্ঞান, বিজ্ঞান আমরা আমাদের কাজের মধ্যে দিয়ে সমাজকে দিয়ে যাই, তাই থেকে যায়। তাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে। মৃত্যুকে এভাবেই জয় করে যুক্তিবাদী মানুষ, প্রগতিশীল মানুষ, আধুনিক মানুষ। -প্রবীর ঘোষ

 

৫০) সমাজটা একটু একটু করে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লো। কেন? কারণ সমাজ শুধু মানুষকে প্রভাবিত করে না, মানুষও সমাজকে প্রভাবিত করে। মানুষ যদি একটু একটু করে সমাজকে দুর্নীতিগ্রস্ত করতে পারে, তবে মানুষ কেন পারবে না সমাজকে একটু একটু করে দুর্নীতি মুক্ত করতে? -প্রবীর ঘোষ

 

 

৫১) ধর্মেই রয়েছে সমস্ত অকাজ-কুকাজ করেও পার পাওয়ার ঢালাও ব্যবস্থা। মক্কা, জেরুজালেম, পুরী, বারাণসী কি তিরুপতি, 'সব পবিত্র স্থানে দর্শনে রয়েছে জীবনের সব পাপ ধুয়ে গিয়ে পুণ্য সঞ্চয়ের নিশ্চিন্ত গ্যারান্টি। সত্যিই ভাবুন তো, ভোগবাদী, প্রতারক, হত্যাকারী থেকে ধর্ষক প্রত্যেকের জন্যই পরম করুনাময় সব ধর্মের ঈশ্বরের কি অপার করুণা! পাপীদের উদ্দেশে ভগবান হেঁকে বলছেন- “লুটে পুটে খেতে ভয় কি রে পাগল, আমি তো আছি”। -প্রবীর ঘোষ

 

৫২) সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে ‘সত্য' নির্ধারিত হলে আজও পৃথিবীর চারিদিকে সূর্য ঘুরত, আজও যে কত শত সহস্ৰ অন্ধ বিশ্বাসকে মেনে নিতে হত, তার ইয়ত্তা নেই। ঈশ্বর-বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও অপেক্ষা করে আছে একই অনিবার্য পরিণতি । ঈশ্বর-বিশ্বাসীরা যুক্তির অনিবার্য জয়কে বিলম্বিত করতে পারে মাত্র। অন্ধ-বিশ্বাসীরা যুক্তির জয়যাত্রার গতি স্তব্ধ করতে পারেনি, পারবেও না। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৩) যৌন-জীবন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যে পড়ে। নারী- পুরুষের মিলন একটা স্বাভাবিক, সুন্দর আনন্দময় ঘটনা। কিন্তু মৈথুন সর্বস্বতা নিশ্চয়ই খারাপ। প্রেমহীন শারীরিক মিলন অবশ্যই খারাপ। এটাও একটা অভ্যাসের ব্যাপার। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৪) ঈশ্বরজাতীয় কল্পনা শুরু তো মাত্র আঙ্গুল গোনা কয়েক হাজার বছর আগে তার আগে মানুষ প্রজাতি পৃথিবীতে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে ছিল কার উপর ভরসা করে? নিশ্চয় নিজের উপর ভরসা করে” -প্রবীর ঘোষ

 

৫৫) মার্কসবাদীদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে মার্কিন গোয়েন্দা সি.আই.এ.-রা বোমা, গোলা, বারুদ কিছুই প্রয়োগ করল না। প্রয়োগ করল মগজ ধোলাইয়ের ব্রহ্মাস্ত্র। আর তাতেই হুড়মুড় করে একের পর এক মার্কসবাদী সাম্রাজ্য ছিল তা ধ্বসে পড়ল। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৬) এখন রাষ্ট্র শক্তিগুলি টিকে থাকার পদ্ধতি পাল্টাচ্ছে। যুক্তির বিরূদ্ধে বিপরীত যুক্তির আক্রমণ চালিয়ে সরাসরি লড়াইতে নামার চেয়ে যুক্তি নির্ভর কোনও আন্দোলনের পাল থেকে হাওয়া কেড়ে নিতে আপাত দৃষ্টিতে সমধর্মী যুক্তি নির্ভর সাজানো আন্দোলনকে গতিশীল করাকে অনেক বেশি কার্যকর মনে করছে। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৭) মার্কস ছিলেন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী। তিনিই প্রথম স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন শোষণহীন সমাজের। মার্কস মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, মার্কসবাদ সমাজ বিজ্ঞান, মার্কসবাদ কোনও সামগ্রিক দর্শন নয়। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৮) সংস্কৃতি বলতে যেহেতু একটি মানব গোষ্ঠি বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সামগ্রিক জীবন ধারাকে বোঝায়, তাই সাংস্কৃতিক আন্দোলন বলতে আমরা অবশ্যই একটি মানব গোষ্ঠি বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির জীবন ধারার সুস্থ বিকাশের প্রতি অগ্রগমনকেই বুঝব। -প্রবীর ঘোষ

 

৫৯) যুক্তিবাদীরা নমনীয়। যে দিকে যুক্তি, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন । যুক্তিবাদীরা বর্তমানের সংগৃহীত তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে আজ যা বলেন, আগামী কালের বাড়তি তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে আজকের বক্তব্য বাতিল করার প্রয়োজন হলে আন্তরিকতার সঙ্গেই তা করেন । তবে যা করেন তা তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতেই, “ভবিষ্যতে তথ্য- প্রমান পাওয়া গেলে যেতেও তো পারে” এমনটা ভেবে করেন না ।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬০) একটু তলিয়ে দেখলেই দেখতে পাবেন তথাকথিত অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক নেতারা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ অদৃষ্টবাদ বিরোধী চরম বাস্তববাদী। ‘ভাগ্যে যা লেখা আছে তাই হবেই', বলে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা দলই নির্বাচনের লড়াইতে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। -প্রবীর ঘোষ

 

৬১) যুক্তিবাদী সাজা যায় না । শুধুমাত্র জীবনচর্যার মধ্যে দিয়েই যুক্তিবাদী হতে হয় । যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হলে নিজেকে যুক্তিবাদী হতে হবে। এর কোন ব্যাতিক্রম সম্ভব নয় ।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬২) অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত ‘ঈশ্বর’ নামের জুজুর ভয়ের কোনও প্রয়োজন হয় না। যে মানুষ নিজেকে সঠিক আদর্শবোধ ও সঠিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত করে, সে কখনই খারাপ কাজ করে না।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬৩) একথাও আমরা ইতিহাস থেকেই শিখেছি জনগণ তীব্র শোষণের শিকার হলেও নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকার অভাবে বহু আদর্শে উদ্বুদ্ধ মানুষের প্রাণদান সত্ত্বেও একটা সংগ্রাম কিভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়।  -প্রবীর ঘোষ

৬৪) একটি পরম সত্য আমাদের মনে রাখতেই হবে, সমাজের বহুর সুখের সঙ্গে নিজের মেলবন্ধন না ঘটালে কোনও মানুষই পরিপূর্ণ সুখের অধিকারী হতে পারে না। এই কথাটা তাত্ত্বিক ভাবে সত্য, বাস্তবক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সত্য।  -প্রবীর ঘোষ

৬৫) পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দাস-বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে জ্বলতে দেখিনি। এই মহান দেশে দাস-বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে দেয়নি জন্মান্তরবাদের জলকামান।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬৬) বিদেহী আত্মার পূর্নজন্ম নিয়ে ধর্মগুলোর মধ্যে বিরোধ আরও বেশি। বিশ্বে প্রধান ধর্মমত হিন্দু, মুসলমান ও খ্রীষ্টান। হিন্দু ধর্ম আত্মার পূর্ণজন্মে বিশ্বাস করে। মুসলিম ধর্ম ও খ্রীষ্ট ধর্ম আত্মার পূর্ণজন্ম বিশ্বাস করে না, আর, প্রত্যেকটি ধর্ম তাদের বিশ্বাসকেই অভ্রান্ত বলে মনে করে।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬৭) প্লেটো বলেছিলেন, “মহান মিথ্যে ছাড়া রাষ্ট্র চালানো যায় না।” এই ‘মহান মিথ্যে' দিয়েই শোষিত মানুষগুলোর প্রতিবাদের কণ্ঠ, বিপ্লবের ইচ্ছে, একত্রিত সংগ্রামের প্রয়াসকে প্রতিহত করার চেষ্টা চলেছে ধারাবাহিকভাবে।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬৮) যুক্তিবাদ' হঠাৎ করে আকাশ এসে পড়েনি। এই মতবাদের পরিপূর্ণ দর্শন হয়ে ওঠার একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বুদ্ধ, মহাবীর, চার্বাক থেকে দেকার্ত, স্পিনোজা, হেগেল, কান্ট, মার্কস, লেনিন, মাও-প্রত্যেকেরই অবদানের পরিণতিতে আজ ‘যুক্তিবাদ' একটা সম্পূর্ন দর্শনের রূপ পেয়েছে । ‘যুক্তিবাদ' ও ‘নব্য যুক্তিবাদ' - এর পথ পরিক্রমা শেষে ‘সমকালীন যুক্তিবাদ' -এ এসে পৌঁচেছে। ‘সমকালীন যুক্তিবাদ' চিরকাল-ই সমকালীন থাকবে এমন-ই এক যুক্তিবাদ।  -প্রবীর ঘোষ

 

৬৯) একবার ভাবুন তো, আত্মার চেহারাটা কেমন, তাই নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশবাসীর বিভিন্ন মত। অথচ জন্মান্তর বিশ্বাসী মানুষের কাছে গীতা, বাইবেল ও কোরানের মতো অভ্রান্ত স্বামী অভেদানন্দের লেখা মরণের পারে বইটির এক জায়গায় অভেদানন্দ বলেছেন, “আমাদের মনে রাখা উচিত যে, সত্য কখনও দু'রকম বা বিচিত্র রকমের হয় না, সত্য চিরকালই এক ও অখন্ড।” -প্রবীর ঘোষ

 

৭০) প্রতিটি গণতান্ত্রিক অধিকারই টাটা, বিড়লা, আম্বানিদের সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়েছে রাস্তার ভিখারীটিকে পর্যন্ত। পার্থক্য শুধু রাষ্ট্রশক্তির অকরুণ সহযোগিতায় টাটা, বিড়লা, আম্বানিদের অধিকারের হাত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। তাদের নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে গিয়ে ভিখারীদের অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করতেই শুধু ভুলে গেছে রাষ্ট্রশক্তি – এই যা।  -প্রবীর ঘোষ

 

৭১) ভ্রান্ত-চিন্তার, ভ্রান্ত-দর্শনের বড় মাপের পন্ডিত মানেই বড় মাপের মূর্খ এ সেই - যে যত বড় অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ও যত বড় জ্যোতিষী, সে তত বড় প্রতারক - কথাটির মতই পরম সত্য।  -প্রবীর ঘোষ

৭২) ঈশ্বর পাপ দেবেন” চিন্তা মানুষকে দূর্নীতি থেকে বিরত যদি করতেই পারত, তবে ভারতের মত ঈশ্বর বিশ্বাসী দেশ কখনই দূর্নীতিতে বিশ্বের প্রথম সারিতে স্থান করে নিতে পারত না।  -প্রবীর ঘোষ

 

৭৩) শেক্সপিয়ার থেকে বিদ্যাসাগর, মেঘনাদ সাহা থেকে হকিং সরস্বতী পূজো না করেও বৌদ্ধিক জ্ঞানে হিমালয়ে উঠে প্রমান করে দিয়েছেন, জ্ঞানার্জনে সরস্বতীর ভূমিকা শূন্য। -প্রবীর ঘোষ

 

৭৪) বিভিন্ন যুগে ‘মহান মিথ্যে' পাল্টায়, কারণ যুক্তিবাদ কখনই একটা স্তরে স্থির থাকে না, স্থির থাকতে পারে না প্রতিটি স্তরের যুক্তিবাদের পাশাপাশি ‘মহান মিথ্যে' পাল্টায়, পাল্টায় কুসংস্কার । -প্রবীর ঘোষ

৭৫) ভারতের সংস্কৃতি বলে শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত- বিজ্ঞান ইত্যাদি নিয়ে যে প্রচার চালানো হয়, সেই সংস্কৃতি উচ্চবর্ণের ভারতীয়দের সংস্কৃতি, সর্বোস্তরের ভারতীয়দের সংস্কৃতি নয়। শতকরা ৮০ ভাগ ভারতীয়-ই তপশিলভুক্ত জাতি ও উপজাতি গোষ্ঠীর অথবা হতদরিদ্র মানুষ। এই সংস্কৃতি সেই শতকরা ৮০ভাগ মানুষের সংস্কৃতি নয়। -প্রবীর ঘোষ

 

৭৬) দেশ প্রেম মানে “দেশবাসীর প্রতি প্রেম”। কিন্তু তামাম দেশবাসীকে তো এক সঙ্গে প্রেম বিলোন যায় না। হুজুরের দলকে প্রেম বিলোলে মজুরের দলকে অপ্রেম বিলোতে হয়। আর মুজুরের দলকে প্রেম বিলোন মানেই হুজুরের দলকে অপ্রেম। -প্রবীর ঘোষ

 

৭৭) যুক্তিবাদী আন্দোলনে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন ও দেবেন তাদের সচেতন থাকতে হবে, বুঝতে হবে আন্দোলনের শত্রু-মিত্রকে। আন্দোলনকর্মী ও নেতাদের আন্তরিকতা, তাদের নিপীড়িত মানুষদের প্রতি সমুদ্র-গভীর প্রেমই দিতে পারে আন্দোলনের অসামান্য সাফল্য। এই আন্তরিকতা ও প্রেমের মাঝখানে কখনই আসতে পারেনা আপসমুখী কোন চিন্তা। এই আপসমুখী মানসিকতার দ্বিধাই আপনাকে হিসেবী পা ফেলতে শেখাবে। প্রেম কখনও হিসেবী পা ফেলতে শেখায় না।  -প্রবীর ঘোষ

No comments